বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক আব্দুল্লাহপুরের প্রাচীন পুল

Estimated read time 1 min read

ফেব্রুয়ারী,১৫,২০২৪

মোঃ সিহাদ দেওয়ান, টঙ্গীবাড়ী মুন্সিগঞ্জ থেকেঃ

এই পুলটি প্রাচীন বিক্রমপুরের ইতিহাস বিখ্যাত। পুলঘাটা বা পানামের পুল নামে পরিচিত। বাংলার প্রাচীন রাজধানী বিক্রমপুর তথা বর্তমান জেলা মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রাম নামক স্থানে মীরকাদীম খালের উপড়ে এই পুলের অবস্থান। আজও ইতিহাসের মহাকীর্তি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের বিবর্তনে এই পুলটি মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলাকে বিভক্ত করেছে। ইতিহাসবিদ  যতীন্দ্রমোহন রায় প্রবাদ হিসাবে মহারাজা বল্লাল সেন কর্তৃক এই পুল নির্মিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন তিনটি খিলানের উপড় এই পুল নির্মান করা হয়। 

পুলের মাঝের খিলানের উচ্চতা প্রায় ১৯ হাত। এর দুই পাশের খিলানের প্রতিটি প্রায় ০৫ হাত প্রস্থ ও প্রায় ১১ হাত উঁচু। স্তম্ভ বা ভিমের বেড় ০৪ হাত পুরু। পুলটির দৈর্ঘ ১১৬ হাত। নির্মান কৌশল বিবেচনা করে ঐতিহাসিকগণ একে সেন রাজাদের অন্যতম কীর্তি বলে মনে করেন। 

মহারাজ বল্লাল সেন কর্তৃক নির্মিত আরো একটি পুলের সন্ধান ঐতিহাসিকগণ আমাদের দিচ্ছে, সেই পুলটির নির্মানশৈলী একই রকম, তবে আয়তনে আব্দুল্লাহপুরের পুল থেকে কিছুটা বড়। তালতলার পুল নামে তা সমধিক পরিচিত। 

বড় বড় মালবাহী নৌকা চলাচলের সুবিধার জন্য প্রতিটি পুলেই মাঝের খিলান বড় রাখা হয়েছে। তা সত্বেও বৃটিশ আমলে তালতলা পুলের মাঝের খিলানটি বোমা মেরে গুড়িয়ে দেয়া হয় সৈন্যবাহী নৌযান ও গোলা বারুদের রসদ পরিবহনের জন্য। 

ঐতিহাসিকদের অভিমত বল্লাল সেন বিক্রমপুরে রাজধানী স্থাপন করে বাংলায় রাজত্ব করেন ধারণা করা হয় ১১ শতাব্দী কালের দিকে অথবা সালের সময়, যদি তার আমলে এই পুল নির্মিত হয়ে থাকে তাহলে তা প্রায় ১০০০ বছর অতিক্রম করেছে, এবং তা বাংলাদেশের একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাচীনতম পুরাকীর্তি। তবে সংস্কারের অভাবে এই হাজার বছরের ঐতিহাসিক পুলটি আজ ধ্বংসের পথে, যা হাজার বছর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেমনটা আগামীর প্রজন্মকে জানান দিয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি সহ শিক্ষার্থীদের   অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম। স্থানীয় দের মতে সংস্কার কাজ চলমান থাকলে প্রাচীন এই পুলটি টেকসই ও যুগ যুগান্তরে শতাব্দীর পর শতাব্দী  টিকিয়ে রাখা সম্ভব যেটা আগামীর প্রজন্মকে হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারণা দিতে পারে। 

এই অঞ্চলে একই রকম কিন্তু একটু ভিন্ন নির্মান শৈলীতে আরো একটি পুল রয়েছে যা পানাম দুলালপুরের পুরের পুল নামে পরিচিত। স্থানীয়রা বলেন পুলঘাটা ব্রীজ। ঐতিহাসিকদের অভিমত এই পু্লটি পাঠান আমলের কীর্তি। যতীন্দ্রমোহন রায়ও একই ধারনা পোষণ করেন। বাংলার প্রাচীন পাঠান রাজধানী সোনারগাঁয়ের পুলটিও একই রকম আর একই নির্মানশৈলীর।আব্দুলাপুরের পুলটিকে অনেকে জিনের পুল বা গায়েবী পুল বলে থাকেন। এভাবেই এই পুল ও ইতিহাস সম্পর্কে জনমনে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে।

www.bbcsangbad24.com

আরও দেখুন আমাদের সাথে......

More From Author